‘দাম বাড়িয়েছেন, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দিতে হবে’

‘দাম বাড়িয়েছেন, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম এর আগেও কয়েক দফায় বাড়ানো হয়েছিল দাবি করে ব্যবসায়ীরা বলেন, দাম বাড়লেও শিল্প মালিকরা চাহিদামতো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পায়নি।

গ্যাসের বাড়তি দামের ফলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। তারা সরকারকে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

আজ শনিবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন সংগঠনটির সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।ৃ

সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের নতুন এই সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের এককালীন অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি এবং ২০২৩ সালে ডিসিসিআইয়ের বর্ষব্যাপী কর্ম-পরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন বলা হয়েছে দাম বাড়ানো হলে সঠিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বেসরকারি খাত থেকে আমাদের দাবি থাকবে, আপনারা সব সময় গ্যাসের দাম বাড়ান, তবে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করেন না। দাম বাড়ানোর পরেও সমস্যার কথা বলেন। আমাদের কথা হলো, আমদানি করে দেন বা স্পট মার্কেট থেকে দেন, আমাদেরকে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করতে হবে।’

ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার তার কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, দায়িত্বকালে তিনি রপ্তানি আয় বহুমুখি পণ্যের অন্তর্ভুক্তির জন্য কাজ করবেন। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক ৯৮ ভাগ কর কাঠামোকে কীভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে কাজ করবেন। অন্যদিকে ৭৫ লাখ টিআইএনধারীদের মধ্যে মাত্র ২৫ লাখ রিটার্ন দাখিল করছে, তাদের সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য কাজ করবেন তিনি। তবে এক্ষেত্রে এনবিআরকে রজস্ব আহরণে করদাতার উপর প্রতিবছর করের বোঝা না চাপিয়ে নতুন নতুন খাত অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান নতুন এই সভাপতি। যাতে করদাতারা সহজে এবং আগ্রহ সহকারে কর দিতে পারেন।

কূটনৈতিক অর্থনীতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক কূটনীতি থেকে বেরিয়ে অর্থনৈতিক কূটতিতে অগ্রসর হওয়া। আমরাও চাই এই বিষয়টি যাতে আমাদের কূটনৈতিকরা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশে ভালোভাবে কাজ করেন।

সামীর সাত্তার বলেন, আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে ঢাকা চেম্বার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ঋণ খেলাপি কমাতে এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করবে ঢাকা চেম্বার।

তাছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে সরকার চারটি খাতে যে ৪০টি বিষয় চিহ্নিত করেছে, সেক্ষেত্রে সবাইকে সঠিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনে কাজ করবে ডিসিসিআই। আর প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন না হলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে না বলে জানান সংগঠনটির সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

Leave a Reply