রমজানের পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলা বেড়েছে 

রমজানের পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলা বেড়েছে 

রমজানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, এমন পাঁচটি পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, গত বছরের রমজানের আগের মাসের তুলনায় এ বছর এ পাঁচ পণ্যের আমদানির ঋণপত্র খোলা স্বাভাবিক রয়েছে। তাই সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে এসব পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। পণ্য পাঁচটি হলো চিনি, ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ ও খেজুর।

এদিকে আমদানিকারকেরা বলছেন, সার্বিকভাবে ঋণপত্র খুলতে সমস্যা হলেও ভোগ্যপণ্য আমদানিতে এ সমস্যা কমে এসেছে। তাতে ভোগ্যপণ্য আমদানি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তাই রমজান মাসে রোজার পণ্যের খুব বেশি সংকটের আশঙ্কা নেই। 

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, গত বছরের জানুয়ারিতে ৫ লাখ ১১ হাজার ৪৯২ মেট্রিক টন চিনি আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। আর গত জানুয়ারিতে খোলা হয়েছে ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন চিনি আমদানির ঋণপত্র। গত বছরের জানুয়ারিতে ভোজ্যতেলের ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টনের, গত জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮৫৩ মেট্রিক টন। 

তবে গত বছরের জানুয়ারিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন ছোলা আমদানির ঋণপত্র খোলা হলেও চলতি বছরের একই সময়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৬৬ মেট্রিক টন ছোলা আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে ৩৬ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছিল, এবার খোলা হয়েছে ৪২ হাজার ৫৬২ মেট্রিক টনের। খেজুর আমদানির জন্য ঋণপত্রও এ বছর বেড়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ১৬ হাজার ২৯৮ মেট্রিক টন খেজুর আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়। এবার খোলা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ মেট্রিক টনের। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার খেজুর আমদানির ঋণপত্র খোলা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সব মিলিয়ে পাঁচ পণ্যে গত বছরের জানুয়ারিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছিল ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭৭৩ মেট্রিক টনের জন্য। এ বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৪০৫ মেট্রিক টনে। 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেসব পণ্য আমদানিতে যথেষ্ট পরিমাণ ঋণপত্র খোলা হয়েছে। যতটা প্রয়োজন, সেই পরিমাণ ঋণপত্র খোলা হয়েছে। 

মেজবাউল হক জানান, নিবিড় তদারকির মাধ্যমে পণ্য সরবরাহ করা হলে রমজানে কোনো ঘাটতি হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নিয়মিত বাজার তদারক করা হচ্ছে। ঋণপত্র নিষ্পত্তিতে কোনো সহায়তার (অর্থাৎ ডলার) প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই সহায়তা দেবে। রমজানের পণ্য আমদানিতে নীতি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। চাহিদামতো ঋণপত্রও খোলা হচ্ছে। আশা করছি, পণ্য সরবরাহও স্বাভাবিক থাকবে। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত বছরের এপ্রিল থেকে দেশে ডলারের সংকট দেখা দেয়। তাতে ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৭ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি তদারকি বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক। 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাদের তেল ও চিনি মিল আছে, তারা ঠিকই ঋণপত্র খুলতে পারছে। অন্যরা ডাল, খেজুরসহ অন্য খাদ্যপণ্যের জন্য ঋণপত্র খুলছে। এখন সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে রমজানের পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না।’

Leave a Reply