শীতের শেষে দাম বাড়ছে সবজির

শীতের শেষে দাম বাড়ছে সবজির

মৌসুম নয় ও সরবরাহ কম; এ দুই অজুহাতে বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন বাড়তি যাচ্ছে। বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিক্রেতারা নির্বিকার, বলছেন শীত শেষে সবজির দাম প্রতিবারই বাড়ে। আগামী দিনগুলোয় আরও বাড়তে পারে বলেও ক্রেতাদের সতর্ক করে দিচ্ছেন তারা। জনপ্রিয় কিছু সবজির দেখাই মিলল না, সরবরাহ কমে আসার কারণে দাম বেড়ে যাচ্ছে অন্যগুলোর। আর গরমের সবজি আসছে কিছু, কিন্তু দাম অনেক বেশি। লেবুর কথা না বললেই নয়। টানা কয়েক মাস এক ডজন মিলত যত টাকায়, সেই অর্থে এখন মেলে না এক হালিও। শীত মৌসুম শেষ হয়ে আসায় দাম বাড়তি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। টানা দুই সপ্তাহ বেড়ে কেজিপ্রতি ২৩০ টাকায় উঠে যাওয়া ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে এসেছে। ২০০ টাকা থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কেজিপ্রতি কমেছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, টমেটো প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে শিম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা আর বিচিসহ শিম ৬০ টাকা, প্রতি কেজি করোলা ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৪০ টাকা, পটোল প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ টাকা, শালগম প্রতি কেজি ৩০ টাকা, নতুন আলু (লাল) প্রতি কেজি ৪০ টাকা, নতুন আলু (ডায়মন্ড) প্রতি কেজি ৩০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ৪০ টাকা এবং প্রতিটি লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, শীত এলে সবজির দাম কিছুটা কম ছিল। কিন্তু হঠাৎ সেই যে দাম বাড়ল, আর কমেনি। আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি দামেই সবজি কিনতে হচ্ছে।

ঢাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরেও শীতের সবজি বাঁধাকপির দেখা মেলেনি। ফুলকপি থাকলেও শীতের সেই সতেজ ভাব নেই, তবে দাম ঠিকই বাড়তি। শীতে ২০ থেকে ২০ টাকায় মিলত যেটি, এখন দর ৩০ টাকা থেকে ৪০, কেউ কেউ দাম চাইছে তার চেয়েও বেশি। সপ্তাহ দুয়েক আগেও ৩০ থেকে ৫০ টাকায় যে বেগুন মিলত, সেটি এখন চড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাম দরের সুযোগ নেই। মেটাতে হয় বিক্রেতাদের চাওয়া। সব দোকানে একই দাম।

একইভাবে ২০ থেকে ৩০ টাকা থেকে লাফিয়ে টমেটো পৌঁছে গেছে ৪০ বা তার চেয়ে বেশি দামে, ছোট আকারের লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায়। কাঁচামরিচ গত কদিন ধরেই রান্নার ‘দামি উপকরণ’। এক কেজি কিনতে ছুটির দিন লেগেছে ১৬০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি।

গ্রীষ্মের আগাম সবজির স্বাদ নিতে চাইলে পকেট বেশ ভারী থাকা চাই। করলার দাম বিক্রেতারা চাইছেন কেজিতে ১২০ বা তার চেয়ে বেশি। বরবটির দামও একই রকম। বছরজুড়ে মোটামুটি সস্তায় বিক্রি হওয়া মিষ্টিকুমড়ার কেজি চড়েছে ৪০ টাকায়। ঝিঙার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

শীতের আগে থেকে টানা কয়েক মাস কারওয়ানবাজার গেলে ২০ টাকা ডজন দরে লেবু বিক্রির হাঁকডাক শোনা গেছে। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে হঠাৎ পাল্টে গেছে সব কিছু। এলাকার বাজারে ছোট আকারের লেবুর হালিই এখন ৪০ টাকা। একটু বড় আকার হলেই দাম উঠে যায় ৭০ টাকায়।

লেবু বিক্রেতা আনছার মিয়ার দাবি, শীতে চাহিদা কম থাকে লেবুর। এখন গরম পড়ছে, মানুষ শরবত খাবে বেশি। তাই বেড়েছে চাহিদা। তবে ফলন বাড়েনি। তাই দাম বাড়ছে। এহন লেবুতে যত ফুল আয়ে, তার বেশিরভাগই ঝইরা যায়। বাজারে আমদানি কম, যেগুলা আছে, অত ভালাও নয়। তাই দাম বাড়তি, এ কথা বলে এই বিক্রেতা জানালেন, বৃষ্টি এলে ফলন বাড়বে। তখন কমে আসবে দাম।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির হিসাবে, এক মাস আগেও ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছিল ১৫০ টাকায়।

ব্রয়লারের পাশাপাশি কিছুটা কমেছে লেয়ার ও সোনালি মুরগির দামও। ২৮০ টাকা থেকে লেয়ার নেমেছে আড়াই শতে, ৩২০ থেকে সোনালি নেমেছে তিনশ টাকায়। মিরপুর পীরেরবাগের মুরগি বিক্রেতা শফিক মিয়া জানান, গত সপ্তাহে সরবরাহ কম ছিল, দামও বেশি ছিল। বেচাকেনাও বেশ কমে গিয়েছিল।

গরুর মাংসের বাজারে অবশ্য কোনো ‘সুখবর’ নেই। কোনো দোকানে ৭০০, কোনো দোকানে ৭৩০ টাকা দরে প্রতিকেজি বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের বাজারে কেজিপ্রতি শোল ৫০০ টাকা, বাইম ৫২০ কেজি, টেংরা ৩২০ টাকা, বোয়াল ৩৫০, শিং মাছ আকারভেদে ২৪০ থেকে ৩২০, মাঝারি চিংড়ি ৬৪০, ছোট চিংড়ি ৪২০ থেকে ৪৬০, পাবদা ৩২০, ইলিশ আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৫০০, টাকি ৩০০, পুঁটি ৩২০, রুই ২৪০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাঝারি দামের মাছের মধ্যে কেজিপ্রতি সিলভার কার্প ২০০ টাকা, পাঙাশ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, বাইলা ২৪০ টাকা, কাচকি ২৪০ টাকা, সুরমা ২০০ টাকা, পোয়া দেশি ১৬০, লাল পোয়া ১২০ টাকা, নলা মিলকা ১৪০ টাকা, টাটকিনি ১২০ টাকা, ফলি ২০০, তেলাপিয়া আকারভেদে ১৬০ টাকা ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply