সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের সাত শতাংশ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের সাত শতাংশ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের

সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ৫৫ লাখ ৯২ হাজার ১৯৩টি শেয়ার ৭৫ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১ দশমিক ১৯ শতাংশ বা ১ টাকা ৬০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ১৩২ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল একই। ওইদিন কোম্পানিটির ২৯ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ২১ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪৩টি শেয়ার মোট ২ হাজার ৮৪০ বার হাতবদল হয়। ওইদিন শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৩০ টাকা ১০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৩৫ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ১০১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৭৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২২) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৯৮ পয়সা, আগের বছর একই সময় যা ছিল ৪ টাকা ৩৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ৩৬ পয়সা কমেছে। এছাড়া ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা ৫০ পয়সা। আর এই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ৬ টাকা ৬১ পয়সা। আগের বছর একই সময় ছিল ৫ টাকা ৪৪ পয়সা।

এদিকে ২০২২ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৪ টাকা ৮০ পয়সা। ৩০ জুন, ২০২২ তাদের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭২ টাকা ৫২ পয়সা। আর আলোচিত সময়ে তাদের শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ হয়েছে ২৩ টাকা ৮৭ পয়সা। এর আগে ৩০ জুন, ২০২১ সমাপ্ত হিসাববছরের বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। সে সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছিল ৪ টাকা ৭২ পয়সা। ৩০ জুন, ২০২১ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা ২৮ পয়সা। এছাড়া এই হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১২ টাকা ৭৮ পয়সা।

কোম্পানিটি ১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। কোম্পানির এক হাজাার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৫২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ১৫ কোটি ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪০ শেয়াররের মধ্যে সরকারি ৫২ দশমিক ১০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৩ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

লেনদেনের তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ৭৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৭ শেয়ার ৭০ কোটি ১০ লাখ ৫১ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে। লেনদেনের তালিকায় তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেড। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৯ শেয়ার ৬১ কোটি ৬১ লাখ ১১ হাজার টাকায় লেনদেন হয়, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে শেয়ারটির দর ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছে।

Leave a Reply