৭ মাসে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ

৭ মাসে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছিলো করোনা মহামারি। এরপরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ফের অস্থিরতা তৈরি করে। এসবের প্রভাব দেশের সার্বিক অর্থনীতিতেও পড়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে দেশের কৃষিক্ষেত্রে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) কৃষি ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৪ কোটি ৩২ লাখ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিলো ১৭ হাজার ৫৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। করোনা মহামারি ও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৃষির গুরুত্ব ব্যাপকহারে পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই কৃষি খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের মাধ্যমে সহায়তা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সচেষ্ট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো যদি এই খাতের প্রতি গুরুত্ব দেয় তবে খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থ বছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) কৃষি ও পল্লীঋণ বিতরণ হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮৪ কোটি ৩২ লাখ কোটি টাকা। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর এই ঋণের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ে বিতরণ করা ঋণের চেয়ে ১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা বেশি। এছাড়া ডিসেম্বর মাসের চেয়ে যার পরিমাণ ২ হাজার ১৬ কোটি টাকা বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। তখন ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বিতরণ করেছিলো। যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। যার মধ্যে অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই লক্ষ্যমাত্রার ৬০ দশমিক ৪৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।

চলতি অর্থবছরের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১১ হাজার ৭৫৮ কেটি টাকা। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। আট বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭৭১ কোটি টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সাত (জুলাই-জানুয়ারি) মাসে আট রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে ৭ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ১১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা।

বৈশ্বিক খাদ্য অর্থনৈতিক সংকট ও খাদ্যের পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতে খাদ্য সংকট আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশনা রয়েছে। এ জন্য কৃষি ঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশনা আছে বাংলাদেশ ব্যাংকের।

Leave a Reply