বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের বাড়ছে

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের বাড়ছে

বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কভিড-১৯ বিধিনিষেধ শিথিল করার পর পুরোদমে শিল্পোৎপাদন শুরু হয়েছে চীনে। এর প্রভাবেই বিশ্ববাজারে ফের বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। খবর: রয়টার্স।

গত মঙ্গলবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দুই ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে। জ্বালানি তেলের বাজার পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এদিন প্রতি ব্যারেল (১৫৯ লিটার) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৬ সেন্ট বা দশমিক ৪৬ ডলার বেড়ে হয়েছে ৮৪ দশমিক ৩৭ ডলার এবং ডব্লিউটিএ’র দাম প্রতি ব্যারেলে ৪২ সেন্ট বা দশমিক ৪২ ডলার বেড়ে হয়েছে ৭৭ দশমিক ৮৯ ডলার। শতকরা হিসেবে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআইÑউভয় তেলের দাম এদিন ব্যারেলপ্রতি বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ।

তবে গতকাল বুধবার ব্রেন্ট ত্রুদ্ধড অয়েলের দাম কমে ৩৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এতে এ ব্র্যান্ডের দাম দাঁড়ায় ৮৩ দশমিক ১২ ডলারে। একই দিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমে ৪৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এ কারণে এ ব্র্যান্ডের দাম কমে পৌঁছায় ৭৬ দশমিক ৬২ ডলারে।

২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর প্রথম কয়েক মাস আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লম্ফন দেখা দেয়। তবে একই বছরের জুন থেকে এ ধারা থেমে যায়, শুরু হয় মন্দাভাব। এরপর প্রায় দুই বছর পর্যন্ত এ মন্দাভাব অব্যাহত ছিল। ২০২০ সালের কভিড মহামারির শুরুতে সারা বিশ্বে যখন লকডাউন চলছিল, তখন জ্বালানির তেলের দাম মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে এসেছিল। অর্থাৎ এক ব্যারেল তেল কিনলে ক্রেতাকে উল্টো ৩৭ ডলার দেয়া হয়েছে। এরপর ওপেক ও রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এ দাম ৮৫ ডলারে ওঠে।

জ্বালানি তেলের বাজার বিশ্লেষণকারী বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, মহামারি ঠেকাতে প্রায় তিন বছর ধরে কঠোর করোনাবিধি জারি রাখায় শিল্পোৎপাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পেয়েছিল চীনে। ফলে কমে গিয়েছিল তেলের চাহিদা। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় এ ক্রেতাদেশ তেল কেনা কমিয়ে দেয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মন্দাভাব ছিল বাজারে। তবে গত ডিসেম্বরে করোনার যাবতীয় বিধিনিষেধ শিথিলের পর থেকে ফের শিল্পোৎপাদন শুরু হয়েছে দেশটিতে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তেলের চাহিদা।

পিভিএমের তেল বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ব্রেনোক বলেন, চীনের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর ইতিবাচক দিক হিসেবে তেলের দাম বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনের দিনগুলোয় তেলের দাম আরও বাড়বে।

জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা আইজির গবেষক ইয়িপ জুন রং বলেন, আমরা যতটা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও দ্রুতগতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে বাজার। বড় কোনো বৈশ্বিক বিপর্যয় না ঘটলে সামনের দিনগুলোয় বাজার আরও চাঙা হবে।

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ায় দৈনিক ৬ দশমিক ২ মিলিয়ন বা ৬২ লাখ ব্যারেলে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্টেশন।

এ ছাড়া রাশিয়ার তেল উৎপাদনও বেড়েছে। দেশটি নিষেধাজ্ঞা পূর্ব সময়ের মতো গত ফেব্রুয়ারিতে তেল উৎপাদন করে। রাশিয়ার দৈনিক কোমারসেন্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

২০২৩ সালের শুরু থেকে বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে তেলের দাম। কভিড মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টা এবং ওপেক প্লাস জোটের তেল সরবরাহ কমানোর প্রভাবে গত বছর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের চাহিদা অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন রেকর্ড গড়লেও তেলের চাহিদাবৃদ্ধির গতি ঠেকাতে পারেনি। ২০২৩ সালে এর চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply