যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে

যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নারী-পুরুষ সমতা বিধানে অংশ হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সবার অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করছে। যেকোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা চাকরি ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও আবেদন করছে, কাজ করছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে অনেকে বড় দায়িত্বও পালন করছে। ব্রিটেনের তালিকাভুক্ত বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বোর্ড পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রথমবারের মতো এ হার বেড়ে ৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, যুক্তরাজ্যের ৩৫০টি বড় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১০টিতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা বেশি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস স্টক এক্সচেঞ্জ (এফটিএসই) সূচকের তথ্যানুযায়ী, ১০০টি বেশি বড় এবং ২৫০টির বেশি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানে বোর্ড পরিচালনায় নারীদের হার ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এটাও ঠিক, এ সময়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বোর্ড লেভেলের নিচে নেতৃত্বের অবস্থানে নারীদের নিয়োগ দেয়ার হার একইভাবে কমেছে।

এক্সিকিউটিভ কমিটিতে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ নারী দেখা যাচ্ছে। দেশটির শীর্ষ ৫০টি প্রতিষ্ঠান এবারই প্রথম বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বোর্ড ছাড়াও নেতৃত্বের অবস্থানে নারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়ে ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এফটিএসই ৩৫০ সরকারি প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে নারীদের অংশগ্রহণ সম্প্রতি বেশ বেড়েছে। মূলত ব্রিটিশ ব্যবসা পরিচালনায় বৈচিত্র্য আনার জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ইচ্ছার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। সরকারি রিভিউটি ২০২৫ সালের মধ্যে বোর্ডগুলোয় ৪০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণের স্বেচ্ছা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও এ মাইলফলক দেশটির জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারীর তুলনায় অনেক কম। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও ট্রেড সেক্রেটারি কেমি বাডেনোচ বোর্ড পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ হার কেমন নির্ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘‌২০২২ সালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বোর্ড কার্যক্রম পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়ার কারণ রয়েছে। এটি আমাদের জানায়, পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। মূলত সবাই যদি একই উদ্দেশ্য অর্জনে কাজ করতে থাকে তাহলে পরিবর্তন আসবে।’

ফওসেট সোসাইটি লিঙ্গ সমতা নিয়ে প্রচারণা চালায়। প্রতিষ্ঠানটির চিফ এক্সিকিউটিভ জেমিমা ওরচাওসকি বলেন, ‘‌বিষয়টা খুবই ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি। এর মানেই যে কাজ শেষ তা ভেবে নেয়া আমাদের ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, ‘‌সরকারের উচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সহজ কাজের সুযোগ দেয়ার জন্য চাপ দেয়া, বিশেষ করে যখন চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে তখন। সেই সঙ্গে বাবাদেরও উচিত তাদের ভাগের পিতৃত্বকালীন ছুটি গ্রহণ করা।’

যুক্তরাজ্যে ৫ হাজার ২০০টি শীর্ষ পদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশে নারীরা অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে ফওসেট সোসাইটি অ্যানালাইসিস। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বড় ব্যবসা কার্যক্রম এখনো পুরুষদের হাতেই নিয়ন্ত্রিত। এফটিএসই ১০০ প্রতিষ্ঠানে মাত্র সাতজন নেতৃত্ব দেয়, যদিও ২০২২ সালে সংখ্যাটা নয়জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বোর্ড পর্যায়ে ভারসাম্যহীনতা কিছুটা উন্নত হয়েছে। বিশ্লেষণ করা ৩৫০টি বোর্ডে বর্তমানে অন্তত একজন করে নারী রয়েছে। যেখানে এক দশক আগেও ১৫২টি প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে শুধু পুরুষরাই ছিল। সম্প্রতি ডাটা কোম্পানি বোর্ডএক্সের করা নারী নেতৃত্বের রিভিউতে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ তালিকার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে ফ্রান্স। আর দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাজ্য রয়েছে বলে সরকারি তথ্যে জানা গেছে।

Leave a Reply