কিছুটা কমেছে রপ্তানির গতি

কিছুটা কমেছে রপ্তানির গতি

পণ্য রপ্তানিতে গত বছরের শেষ মাসগুলোর ইতিবাচক ধারা ফেব্রুয়ারিতেও অব্যাহত আছে। তবে আগের মাসগুলোর চেয়ে রপ্তানির পরিমাণ কিছুটা কমে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৬৩ কোটি ডলার। আগের চার মাসে গড়ে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ছিল এটি।  ফেব্রুয়ারি মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৪ শতাংশ কম হয়েছে রপ্তানি আয়। অবশ্য আগের মাসগুলোতে ভালো রপ্তানি আয়ের সুবাদে চলতি অর্থবছরের জুন থেকে ফেব্রুয়ারি– এ আট মাসে সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে ১০ শতাংশের মতো।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এমন প্রবণতাই লক্ষ্য করা গেছে। গত চার মাসের রপ্তানির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত রপ্তানির পরিমাণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কম ছিল। অক্টোবরে রপ্তানি হয় ৪৩৫ কোটি ডলারের পণ্য। পরের মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০৯ কোটি ডলারে। ডিসেম্বরে আরও বেড়ে রেকর্ড হয়। একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ ৫৩৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয় মাসটিতে। জানুয়ারিতেও সে ধারা অনেকটা অব্যাহত থাকে। রপ্তানি হয় ৫১৪ কোটি ডলারের। তবে আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কমে যায়। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে আরও কমলো। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি প্রায় ৮ শতাংশ বেশি হয়েছে মাসটিতে।

সার্বিকভাবে অর্থবছরের আট মাসে রপ্তানি হয়েছে তিন হাজার ৭২৪ কোটি ডলারের পণ্য, যা এ সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৩৮৪ কোটি ডলার।

পণ্যভিত্তিক রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সার্বিক রপ্তানি আয়ের চেয়ে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় অনেক বেশি। সার্বিক রপ্তানি বৃদ্ধি যেখানে ১০ শতাংশের কিছু কম, সেখানে পোশাকের রপ্তানি আয় ১৪ শতাংশের বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সার্বিক রপ্তানির পরিমাণ কম হলেও পোশাকের রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি হয়েছে। মোট ৩ হাজার ১৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি  হয়েছে গত আট মাসে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫ কোটি ডলার।

তবে একেবারেই উল্টো চিত্র গুরুত্বপূর্ণ অনেক রপ্তানি পণ্যে। এসব পণ্যের রপ্তানি কমছে বড় ব্যবধানে। এর মধ্যে কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে ২৩ শতাংশ। ওষুধে কমেছে ১২ শতাংশ। চামড়ায় কমেছে ৮ শতাংশ। পাট ও পাটপণ্যে ১৮ শতাংশ। হোমটেক্সটাইলে কমেছে ১৬ শতাংশ।

Leave a Reply