ভুয়া নাম-নথি ও জাল সইয়ে ‘পণ্য রপ্তানি’

ভুয়া নাম-নথি ও জাল সইয়ে ‘পণ্য রপ্তানি’

যে প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য রপ্তানি হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানই জানে না। জাল করা হয়েছে প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যানের সই। যে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিন লক। চার বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। যে কার্গো এজেন্টের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান দুই বছর ধরে বন্ধ। ব্যাংকের যে শাখায় এলসি খোলার কথা বলা হয়েছে, ব্যাংকের সেই শাখা জানে না। এয়ারওয়ে বিলে প্রতিষ্ঠানের যে ব্যক্তির মোবাইল নম্বর দেয়া হয়েছে, তিনি একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। একই ‘সি’ নম্বর দুটি বিল অব এন্ট্রিতে ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে এক চালান পোশাক রপ্তানিতে এমন ভয়ংকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতারক চক্র সব ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছে। নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প এলাকার রপ্তানিকারক জারা স্টাইল লিমিটেডের নামে জালিয়াতি করে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিতে সব কাগজপত্র জালিয়াতি করে আমদানি করা হতো। রপ্তানিতে সব কাগজ জালিয়াতি করে রপ্তানি করার বিষয়টি প্রথমবার সামনে এসেছে। দেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ফাঁসাতে একটি শক্তিশালী চক্র এমন কাজ করছে বলে মনে করেন তারা। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়া উচিত।

সূত্রমতে, ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কাস্টম হাউস দিয়ে দুবাইয়ে ৮১ কার্টন গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি হয়। এর মধ্যে রয়েছেÑ৭৫১টি বয়েজ টি-শার্ট, ২১ হাজারটি লেডিস পেন্ট্রি, ১৪০টি ডেনিম প্যান্ট ও চার হাজার ৪০০টি কিডস জারা সেট। ২৬ হাজার ২৯১টি এই পণ্যের ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয় ২৪ হাজার ১০৮ দশমিক ৫৫ ডলার। আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হয় দুবাইয়ের আজমান ইউনাইটেড এমিরেটস লিমিটেডের ভারটেক্স জেনারেল ট্রেডিং এজেলকে। রপ্তানিকারক দেখানো হয় নারায়ণগঞ্জের বিসিক শিল্প এলাকার শতভাগ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জারা স্টাইল লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. ফয়সাল। সম্প্রতি তিনি এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি এয়ারওয়ে বিল হাতে পান। সেখানে তিনি দেখতে পান, কে বা কারা তার প্রতিষ্ঠানের নামে দুবাইয়ে পণ্য রপ্তানি করেছে। পরে তিনি রপ্তানি-সংক্রান্ত সব কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। তাতে অবাক হন, কারণ এই রপ্তানির সব কাগজপত্র ভুয়া। পরে জালিয়াতির বিষয়টি ব্যবসায়ী নেতাদের জানানো হলে তাদের পরামর্শে থানায় জিডি করেন। বিকেএমইএ ও ঢাকা কাস্টম হাউসকে চিঠি দেন। চিঠি দেয়ার পর বিষয়টি ঢাকা কাস্টম হাউস তদন্ত করছে। 

বন্ধ ‘কার্গো এজেন্টের’ নামে পণ্য পরিবহন

এয়ারওয়ে বিলে কার্গো এজেন্ট হিসেবে নাম দেয়া হয়েছে ইটসা (আইটিএসএ) টোটাল লজিস্টিকস লিমিটেড। এটি এমজিএইচ গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত দুই বছর আগে এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ প্রতিষ্ঠান কিভাবে পণ্য রপ্তানিতে সহযোগিতা করবে?

উত্তরা ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখা জানে না, তাদের শাখা থেকে ‘এলসি’ ইস্যু হয়েছে

আমদানি-রপ্তানিতে জারা স্টাইল লিমিটেড উত্তরা ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখায় লেনদেন করে। রপ্তানির কাগজে দেখা গেছে, ৯ ফেব্রুয়ারি পণ্য রপ্তানির জন্য এই শাখায় এলসি খোলা হয়েছে। রপ্তানির (ইএক্সপি ফরম) কাগজে ৯ ফেব্রুয়ারির ইলেকট্রনিক ডিক্লারেশন নম্বর দেয়া হয়েছে। উত্তরা ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (ফরেন এক্সচেঞ্জ) মো. আশরাফুল হক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এই ধরনের কিছু আমরা ইস্যু করিনি। আমি একটি ফেক ডকুমেন্ট দেখেছি। আমার হেড অফিসে কথা বলেছি। একটি বিল অব এন্ট্রি দেখেছি। ওই বিল অব এন্ট্রি ওই প্রতিষ্ঠানের নামে নয়।’

রপ্তানির কাগজপত্র যাচাই করেনি কাস্টমস

রপ্তানির কাগজপত্রে যাচাই (এক্সপোর্ট অ্যাসেসমেন্ট) কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। এছাড়া তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এক্সপোর্ট এক্সামিন) শাহানা আক্তার রতœা। অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্র ফেক জেনেও টাকা নিয়ে সই করেছেন মিজানুর রহমান। সঠিকভাবে কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে কি নাÑএমন প্রশ্নে মিজানুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘রপ্তানির বিষয় তো। কোনো সময় সব পেপারই যাচাই করা হয়ে যায়। এক্সপোর্টে অনেক অব্যাহতি থাকে। আমাদের এখান থেকে সব কাগজ অ্যাসাইকুডাতে চেক করে পাঠানো হয়। চেক ছাড়া সুযোগ নেই।’ বিন লক করা প্রতিষ্ঠান কীভাবে এন্ট্রি দিলÑএমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিন লক থাকলে প্রোগ্রামার বা বিন লকের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা দেখবেন। সেটা তো এক্সপোর্ট শাখা দেখে না।’

অ্যাসাইকুডায় এক ‘সি’ নম্বরে দুই বিল অব এন্ট্রি

অ্যাসাইকুডায় এক ‘সি’ নম্বর সাধারণ একটি বিল অব এন্ট্রিতে ব্যবহƒত হয়। কিন্তু জারার পণ্য রপ্তানিতে এক ‘সি’ নম্বর দুটি বিল অব এন্ট্রিতে ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে দেখা গেছে, সি নম্বর-১০৩৯৭৫, তারিখ ১২-০২-২০২৩। প্রথম বিল অব এন্ট্রিতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া হয়েছে অলিম্পিয়ার্স গ্রুপ এসআরএল আইটি। আমদানিকারক গাজীপুর সদরের স্প্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেড। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দক্ষিণ খান এলাকার দুলাল ট্রেড। অপর বিল অব এন্ট্রিতে রপ্তানিকারক জারা স্টাইল লিমিটেড। আমদানিকারক আজমান ইউনাইটেড এমিরেটস লিমিটেডের ভারটেক্স জেনারেল ট্রেডিং এজেলকে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহজাহান এন্টারপ্রাইজ। এক ‘সি’ নম্বর দুই বিল অব এন্ট্রিতে ব্যবহারের বিষয়ে এনবিআরের একজন প্রোগ্রামার শেয়ার বিজকে বলেন, ‘একই সময় বা বছর একই কাস্টম হাউস দিয়ে এক ‘সি’ নম্বরে বা বিল অব এন্ট্রি নম্বরে দুটি বিল অব এন্ট্রির সুযোগ নেই, সেটা আমদানি বা রপ্তানি যেটাই হোক। তবে ভেতরের কেউ এমন জালিয়াতি করেছেন।’

এয়ারওয়ে বিলে গার্মেন্ট কর্মীর নম্বর

এয়ার অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনসে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। এয়ারওয়ে বিলে জারা স্টাইল লিমিটেডের নারায়ণগঞ্জের ঠিকানার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই মোবাইল নম্বর (০১৭১৫-৮১৩৪০১) দেয়া হয়েছে। যদিও এই ফোন জারা স্টাইল লিমিটেডের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নয়। দুবাইয়ের প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া আছে ভারটেক্স জেনারেল ট্রেডিং এজেলকে। ঠিকানা দেয়া আছে আজমান ইউনাইটেড আরব এমিরেটস, দুবাই। অনলাইনে এই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ফোন নম্বর ব্যবহার করেন শরীফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি গাজীপুর বাংলাবাজারের জিএম গার্মেন্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। শরীফুলের ছেলে অনলাইনে একটি জার্সি অর্ডার করেন। প্রতারক চক্র এই ফোন নম্বর এয়ারওয়ে বিলে ব্যবহার করেছেন। শরীফুল ইসলাম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমি বাংলাবাজার জিএম গার্মেন্টসে কাজ করি। আমার ছেলের বয়স ১০ বছর। সে অনলাইনে একটি জার্সি অর্ডার করেছে। সেখানে আমার নম্বর দিয়েছে। জার্সি পেয়ে গেছে। আমি কোনো পণ্য দুবাইয়ে পাঠাইনি। জারা বা শাহজাহান এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাউকে আমি চিনি না।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহজাহান এন্টারপ্রাইজ

বিল অব এন্ট্রিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহজাহান এন্টারপ্রাইজের নাম দেয়া আছে, যার ঠিকানা ২৯, মোল্লাপাড়া রোড, দক্ষিণ খান, ঢাকা; যার এইআইএন নম্বর-১০১-১১১৪৪৯। এই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৮ সালের পর থেকে তাদের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। বিন লক করা রয়েছে। নবায়নের আবেদন করা হয়েছে। শাহজাহান এন্টারপ্রাইজের পার্টনার আব্দুর রকিব শেয়ার বিজকে বলেন, ‘আমরা কোনো পণ্য রপ্তানি করিনি। আমার নাম দিয়ে যদি কেউ রপ্তানি করে দেয়, তাহলে কি আমরা দোষী হয়ে গেলাম?’ তিনি বলেন, ‘আমাদের লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। ফলে কাজ করার প্রশ্নই আসে না। চার বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। চার বছর ধরে এই লাইসেন্স দিয়ে আমরা কাজ করিনি। নবায়নের জন্য আমরা ২০১৮ সালে আবেদন করেছি। জারা এন্টারপ্রাইজ, ইটসা লজিস্টিক লিমিটেডের নামই শুনিনিনি, কাজ করা তো অনেক দূরে।’ আব্দুর রকিব বলেন, ‘আমাদের লাইসেন্স নবায়ন হলে হলে ‘সি’ নম্বর থাকত। আর ‘সি’ নম্বর তো কাস্টমস দেয়। আমাদের যেহেতু লাইসেন্স নবায়ন হয়নি, তাহলে ‘সি’ নম্বর কাস্টমস কীভাবে ফেলবে?’ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কেউই জানে না, তাহলে রপ্তানি হলো কীভাবেÑএমন প্রশ্নে রকিব বলেন, ‘কাস্টমস চাইলে সব পারে। কাস্টমসকে ম্যানেজ করে যারা কাজ করছে, তা দুনিয়ার বাইরে। কাস্টমস শতভাগ জানে, না হলে কীভাবে সম্ভব হয়? আমার লাইসেন্স নবায়ন হয়ে আসেনি। বিন লক করা।’ অপর বিল অব এন্ট্রিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দুলাল ট্রেডের নাম দেয়া। তবে এই প্রতিষ্ঠানের কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

জারা স্টাইল লিমিটেড যেভাবে জানল

স্টাইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. ফয়সাল শেয়ার বিজকে বলেন, একটি শিপিং এজেন্টের এক ছোট ভাই আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ভাই আপনারা কি ইএসটি বিক্রি করেন কি না? জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা দুবাইয়ে রপ্তানি করেন কি না। আমি বললাম, আমরা দুবাই ও কানাডায় পণ্য রপ্তানি করি। দুবাইয়ে দুই-তিন বছর আগে রপ্তানি করতাম। কভিডের কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে। ওই ছোট ভাই বললেন, একটি এয়ারওয়ে বিল পেয়েছি। তাতে দুবাইয়ে আপনার প্রতিষ্ঠান পণ্য রপ্তানি করেছে। পরে তার কাছ থেকে এয়ারওয়ে বিলের একটি কপি নিয়ে আমি ইএসটি নম্বর অনলাইনে যাচাই করিÑআমার কোনো ইএসটি ইস্যু হয়েছে কি না বা মিসিং হয়েছে কি না। ইএসটি আগে ব্যাংক করত, এখন আমরা অনলাইনে করি। যাচাই করে দেখলাম, আমার প্রতিষ্ঠান কোনো পণ্য রপ্তানি করেনি। বিলে ইএসটি নম্বর দেয়া আছে ১৬৫৫। আমার সর্বশেষ ইএসটি ইস্যু হয়েছে ২২২। বিল অব এন্ট্রি যাচাই করে দেখলাম, তাতে এন্ট্রি ‘সি’ নম্বর-১০৩৯৭৫। কিন্তু সেখানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া আছে। পরে খুঁজে বের করলাম একই নম্বরে আমাদের নামেও একটি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে রপ্তানি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ দিলাম। থানায় জিডি করলাম। কাস্টমকে চিঠি দিলাম। এয়ারলাইনস থেকে ডকুমেন্ট নিয়েছি। সব দেখে তো আমরা হতবাক। ৮১ কার্টনে গার্মেন্ট পণ্য না অন্য কিছু পাঠিয়েছে, তা তো জানি না। অন্য কিছু পাঠালে তো ওই দেশে গেলে কাস্টমস ধরবে। আমি তো শেষ হয়ে যাব।’ তিনি বলেন, এয়ারওয়ে বিলে যে নম্বর দেয়া আছে, সেই নম্বরে ফোন দেয়ার পর শাহ আলম নামের একজন পরিচয় দিয়েছেন। এয়ারপোর্টে কাজ করেন। নম্বর কোথায় পেয়েছি, প্রশ্ন করেছেন। সৌদি-দুবাইয়ে তিনি পণ্য রপ্তানি করেন। এছাড়া তিনি সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসা করেন। আলিফ এন্টারপ্রাইজ নামে তার প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কভিডের আগে দুবাইয়ে আমি পণ্য রপ্তানি করেছি। তবে ভারটেক্স নামের এই প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো পণ্য রপ্তানি করিনি।

যেসব জায়গায় অভিযোগ করা হয়েছে

একটি শিপিং এজেন্ট থেকে জারা স্টাইলকে জানানো হলে তারা নড়েচড়ে বসে। সংগ্রহ করা হয় এয়ারওয়ে বিল, কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব এক্সপোর্টসহ রপ্তানিতে ব্যবহƒত সব কাগজপত্র। এই নিয়ে জারার পক্ষ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিকেএমইএ’র সদস্য। চিঠি দিয়ে বিকেএমইএ’কে বিষয়টি জানানো হয়। ঢাকা কাস্টম হাউস কমিশনারকে চিঠি দেয়া হয়। সাধারণ ডায়েরি ও চিঠিতে বলা হয়, জারা স্টাইল লিমিটেড একটি শতভাগ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। ১২ ফেব্রুয়ারি এই প্রতিষ্ঠানের কাছে একটি এয়ারওয়ে বিল আসে, যার নম্বর-৫১৪-০৬২৫-২৮৪২। সে অনুযায়ী বিল অব এক্সপোর্ট সংগ্রহ করে আমরা অবাক হয়েছি। কারণ এক্সপোর্ট নম্বর ও বিল অব এন্ট্রি ভুয়া, যা আমাদের কোম্পানির নয়। এয়ারওয়ে বিলে যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে রপ্তানি করা হয়েছে, তা আমাদের কোম্পানির কারও নয়। কে বা কারা আমাদের কোম্পানির নাম ব্যবহার করে রপ্তানি করেছে। বিষয়টি আমাদের জন্য ক্ষতিকারক। বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, রপ্তানিকারক না জানলে রপ্তানি কীভাবে হবে? সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স নবায়ন না হলে, বিন লক থাকলেও যদি এআইএন লক না থাকে, তাহলে এআইএন দিয়ে রপ্তানি করা যায়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট জানে না, তাহলে রপ্তানি করল কেÑএমন প্রশ্নে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের কাজ তো হতে পারে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠান ১৮ ফেব্রুয়ারি ফতুল্লা মডেল থানায় জালিয়াতির বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এই বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শেখ রেজাউল হক দিপু শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের তেমন কিছু করার নেই। যেসব জায়গায় এই ব্যবসা হয় সেসব জায়গায় তদন্ত করা হলে কিছু পাওয়া যেতে পারে। এরপরও জিডির কপি আমাকে দেন। আমি যে কর্মকর্তা তদন্ত করছেন, দেখে আপডেট জানাব।’

এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এখানে একটি চক্র রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে এই চক্রকে বের করতে হবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা এই তদন্তে জড়িত হওয়া দরকার। এয়ারওয়ে বিলে যে ফোন নম্বর রয়েছে, সেই সূত্র ধরে তদন্ত হওয়া দরকার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বের হয়ে যাবে। তদন্ত করতে হবে, না করলে এই ধরনের কাজ হতেই থাকবে। যারা এই জায়গায় কাজ করে, তাদের কেউ না কেউ এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ও ম্যানেজ হয়েছে। তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’ আমদানিতে জালিয়াতি হয়, কিন্তু রপ্তানিতে এ ধরনের জালিয়াতি আগে দেখেছেন কি নাÑএমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আগে কখনো দেখিনি। ইদানীং এসব হচ্ছে। টু হানড্রেড ক্যাটেগরিতে স্যাম্পল নামে যে রপ্তানি হচ্ছে, সেটা আমাদের জন্য আরেকটা খারাপ দিক। এটাকেও বন্ধ করতে হবে। একই চক্র এসব অপকর্ম করছে। এই নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনা এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এই ক্ষেত্রে বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ অবশ্যই জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে, কোনো ছাড় নেই।’

Leave a Reply