সপ্তাহজুড়ে আধিপত্য আইটি ও বিমা খাতে

সপ্তাহজুড়ে আধিপত্য আইটি ও বিমা খাতে

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে ফ্লোর প্রাইস নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত এবং ব্রোকারেজ হাউসের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর সূচক ও লেনদেন কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এতে সপ্তাহজুড়ে লেনদেন শেষে প্রধান সূচক বাড়লে অন্যান্য সূচক কমেছে। এছাড়া দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন বৃদ্ধি পেয়ে ২০০ কোটির ঘর থেকে ৪০০ কোটির ঘরে রয়েছে। ফলে লেনদেন আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে আইটি ও বিমা খাতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬২২ কোটি টাকার বেশি। খাত দুটিতে এক-তৃতীয়াংশ লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আইটি খাতে এবং পরের অবস্থানে রয়েছে বিমা খাত। খাত দুটির শেয়ারদরেও উত্থান হয়েছে। আইটি খাতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি হয়েছে এবং বিমা খাত একইভাবে দর বৃদ্ধির দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ফলে লেনদেন ও শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষ স্থানে থাকায় কোম্পানি দুটিতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহজুড়ে শীর্ষে থাকা আইটি খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। লেনদেনে শীর্ষে থাকা খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ৩৭০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিমা খাতে লেনদেন হয়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ বা ২৫৩ কোটি টাকার। খাতটিতে শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। খাতটি শেয়ারদর বৃদ্ধির দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে লেনদেনে তৃতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে শেয়ারদর কমেছে। খাতটিতে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বা ১৬৫ কোটি টাকা লেনদেন হলেও ২ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। শেয়ারদর কমায়ও খাতটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ৯ শতাংশ বা ১৬১ কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে। খাতটিতে শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। বিবিধ খাত ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ বা ১৫৪ কোটি টাকার লেনদেনের মাধ্যমে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। তবে এ খাতে শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। খাতটি শেয়ারদর কমায়ও একই স্থানে রয়েছে।

এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন খাত শেয়ারদর বৃদ্ধিতে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। খাতটিতে শেয়ারদর বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং এ খাতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ১০ লাখ টাকার। দর বৃদ্ধির তৃতীয় স্থানে থাকা ট্যানারি খাতে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ দর বেড়েছে। টাকার অঙ্কে এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

অপরদিকে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় সবচেয়ে বেশি শেয়ারদর কমেছে পাট খাতে। খাতটিতে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে এবং লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ২ দশমিক ৬০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে এবং লেনদেন হয়েছে ১১৮ কোটি টাকার।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৭৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার।

আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৯২ কোটি ৫১ লাখ টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৭০১ কোটি ৪২ লাখ টাকার বা ৬৪ দশমিক ২০ শতাংশ। ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৫৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে গড়ে লেনদেন হয়েছিল ২৭৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৪০০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৫৬টির, দর কমেছে ১১১টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২০৫টি কোম্পানির। লেনদেন হয়নি ২৮টি কোম্পানির।

সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স উত্থানে লেনদেন শেষ হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইএক্স ৮ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ছয় হাজার ২১৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে। শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৩৫৭ দশমিক ২৯ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই৩০ সূচক ৫ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ২১৬ দশমিক ২৯ পয়েন্টে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৪ দশমিক ৩২ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৬৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ২০ কোটি পাঁচ লাখ টাকা বা ৩১ দমমিক ৬৪ শতাংশ। তালিকাভুক্ত ২৩২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৩৩টির, দর কমেছে ৯৬টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১০৩টি কোম্পানির।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান সূচক সিএএসপিআই দশমিক ২৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ২৮২ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই৫০ সূচক দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, সিএসই৩০ সূচক দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, সিএসইসিএক্স সূচক দশমিক ২৬ শতাংশ, সিএসইআই সূচক দশমিক ২৩ শতাংশ ও সিএসই এসএমইএক্স ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে এক হাজার ৩২৪ দশমিক ২৩ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩০২ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে, ১০ হাজার ৯৬১ দশমিক ৫২ পয়েন্টে, এক হাজার ১৫৪ দশমিক ২৩ পয়েন্টে ও এক হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে।

Leave a Reply