সিরামিক পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৩.২৬ শতাংশ

সিরামিক পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৩.২৬ শতাংশ

 বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্র্রতিবেদন অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি সংকটের কারণে ভুগতে থাকা সিরামিক খাতে রফতানি বেড়েছে প্রায় ৩.২৬ শতাংশ। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ খাতে রফতানি হয় ২ কোটি ৮১ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য। তবে ওই সময়ে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বা ১২.৩ শতাংশ কম রফতানি হয়েছে।

এ বিষয়ে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৬ মাস থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস সংকট কাটতে শুরু করায় এ খাতে উৎপাদন স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরছে। কিন্তু গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সাধারণ সম্পাদক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফান উদ্দিন বলেন, ‘‌গ্যাসের চাপ ৫ মাস ধরে ভালো। আগে যদি ৫০ শতাংশ গ্যাস পেতাম, তাহলে এখন পাচ্ছি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ। গ্যাস সমস্যার কিছুটা সমাধান হলেও বর্তমানে ডলার সংকটের কারণে টাইলস খাতে বেশ সমস্যা হচ্ছে। কারণ টাইলস খাতে বাজারটা অনেক বড়। ফলে তাদের কাঁচামাল আমদানিও অনেক বেশি করতে হচ্ছে। ঠিক সময়ে আমদানি করতে পারছেন না টাইলস উৎপাদকরা। ডলার সংকট না কাটা পর্যন্ত এ অসুবিধা হবে।’

বিসিএমইএ বলছে, দেশে এখন ৭০টি সিরামিক কারখানা (টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যার) আছে। এসব কোম্পানিতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আছে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত বেশির ভাগ সিরামিক যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, পোল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, তুরস্ক, রাশিয়া, স্পেন, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছে।

এছাড়া আর্জেন্টিনা, অ্যাঙ্গোলা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, বেলজিয়াম, ব্রুনাই, কানাডা, কলম্বিয়া, চিলি, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইরান, আয়ারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিরামিকপণ্য রফতানি হচ্ছে। এক দশক আগেও নামমাত্র রফতানি ছিল সিরামিকস পণ্যের। তবে ২০১৬ সাল থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। গত ৩ বছরে এ পণ্যের রফতানি বেড়েছে প্রায় ২০০ শতাংশ।

Leave a Reply