মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিমুখ বিনিয়োগকারী

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিমুখ বিনিয়োগকারী

দেশের পুঁজিবাজারে সব সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এতে লেনদেন ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল। গতকাল সূচকের উত্থানে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারে। ফলে এ খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে ছিল পাট খাত। দর বৃদ্ধির তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে রয়েছে সেবা ও আবাসন এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাতের শেয়ার। অপরদিকে উত্থানেও বিনিয়োগকারীদের বিমুখ এবং শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের শেয়ারে। ফলে খাতটিতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। এ ছাড়া ৩ খাত ছাড়া বাকি সব খাতে এদিন শেয়ারদর বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ভ্রমণ খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ৪টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ২টির দর বেড়েছে এবং ২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাট খাতে দর বেড়েছে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ খাতে মোট ৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ৩টিরই দর বেড়েছে। ৪ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে তৃতীয় স্থানে ছিল সেবা খাত। খাতটিতে লেনদেন হওয়া ৪টি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ৩টির দর বেড়েছে এবং ১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। চতুর্থ স্থানে থাকা কাগজ খাতে শেয়ার বেড়েছে ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংক, টেলিকমিউনিকেশন এবং আর্থিক খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ।

অপরদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আইটি খাতে। খাতটিতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৩০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভ্রমণ খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ১০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ লেনদেন হওয়া জীবন বিমা খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে ৬৬২ কোটি ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪২৭ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৬ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৫০ দশমিক ২০ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ২২৫ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৩৬২ দশমিক ৯২ পয়েন্টে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৫২টি এবং কমেছে ১৪টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ১৭৪টির।

অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৪৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটদর বেড়েছে ১০৮টি, কমেছে ২৭টি এবং পরিবর্তন হয়নি ১৪টির।

এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২০ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪০২ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। এ ছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৩৪ দশমিক ১৮ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৭০ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩৩৬ দশমিক ৫১ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৩২ দশমিক ৪০ পয়েন্টে ও ১ হাজার ১৬১ দশমিক ১৮ পয়েন্টে।

Leave a Reply