বিশ্ব অর্থনীতি মাত্র ১.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জাতিসংঘের

বিশ্ব অর্থনীতি মাত্র ১.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জাতিসংঘের

কভিড-১৯ এর প্রভাব ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় আকারের ধাক্কা লাগতে পারে। চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ১ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে। জাতিসংঘের অর্থ ও সমাজবিষয়ক বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর এপি।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২২ সালের প্রাক্কলনে যেখানে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এদিকে ২০২৪ সালে ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশাবাদ জাতিসংঘের। অবশ্য তা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি প্রশমন ও অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ওপর।

১৭৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ভূমিকায় জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস বলেন, উচ্চমূল্যস্ফীতি, আগ্রাসী মুদ্রানীতি ও ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মারাত্মক শ্লথগতি দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বে ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্যের প্রতি দৃষ্টি দেয়ার কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতিসংঘের অর্থ ও সমাজবিষয়ক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা শান্তনু মুখার্জি জানান, ২০১৯-২০২১ সালে শীর্ষ উপার্জনকারী ১০ শতাংশের আয় বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে নিম্ন উপার্জনকারী ৪০ শতাংশের আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অন্যান্য অগ্রসর অর্থনীতিতে শ্লথগতির প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জাতিসংঘের প্রাক্কলন, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২২ সালে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রলম্বিত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপের অনেক অর্থনীতিও শ্লথগতির মধ্য দিয়ে যেতে পারে। ২৭ সদস্যবিশিষ্ট ইইউর প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালে যেখানে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। তিন বছর আগে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা জাতিসংঘের। ২০২২ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে মন্দা পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিটি।

চীন নিয়ে অবশ্য বেশ আশাবাদী জাতিসংঘ। গত বছরের শেষের দিকে জিরো-কভিড নীতি থেকে বেরিয়ে আসার ফলে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিটি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ২০২২ সালে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ২০২৩ সালে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে চীন। এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি জাপানের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২২ সালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি মূল্যের উর্ধ্বগতিতে বিনিয়োগ ও রফতানি হ্রাসের প্রভাবে অঞ্চলটির প্রবৃদ্ধি কমতে যাচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বৈশ্বিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস ১ দশমিক ৭ শতাংশ। আগের প্রতিবেদনে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। আইএমএফের পূর্বাভাসেও নেতিবাচক তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ সালে ৬ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ৩ দশমিক ৭ শতাংশের পর চলতি বছরে ২ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস আইএমএফের।

গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউডব্লিউই) সম্মেলনে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, কঠিন বছর হতে যাচ্ছে ২০২৩। তবে আমরা বৈশ্বিক মন্দা আশা করছি না।

Leave a Reply