পাট খাতে উত্থান

পাট খাতে উত্থান

দেশের পুঁজিবাজারে সব সূচক কমার মধ্য দিয়ে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসের লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে গতকাল মঙ্গলবারে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত ছিল।

গতকাল মাত্র চার খাতের শেয়ারদর বেড়েছে। সূচকের পতনেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল পাট খাতের শেয়ারে। ফলে এ খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এরপর দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল বিমা খাতের শেয়ার। দর বৃদ্ধির দিক থেকে তৃতীয় স্থানে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের শেয়ার। অপরদিকে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল পাট খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট তিনটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে একটির দর বেড়েছে এবং দুটি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। এর পরের অবস্থানে থাকা বিমা খাতের শেয়ারদর বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ। এদিন বিমা খাতে মোট ৫৬টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে ১১টির দর বেড়েছে, ৪০টির দর কমেছে ও বাকিগুলো অপরিবর্তিত ছিল। তৃতীয় স্থানে থাকা খাদ্য খাতের দর বেড়েছে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ। খাদ্য খাতে লেনদেন হওয়া ২১টি কোম্পানির মধ্যে দুটির দর বেড়েছে এবং ১১টির দর কমেছে। এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন, মিউচুয়াল ফান্ড, আর্থিক, প্রকৌশলী, ব্যাংক, সিরামিক এবং সিমেন্ট খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় ভ্রমণ খাতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে শেয়ারদর কমেছে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। এরপর স্থানে থাকা কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ১ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা আইটি খাতে ১ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে।

অপরদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আইটি খাতে। খাতটিতে গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিমা খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ভ্রমণ খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ২০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ লেনদেন হওয়া ওষুধ ও রসায়ন খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬২৬৭ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৩৬৬ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২২২০ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে ৫৭৩ কোটি ১০ লাখ টাকার শেয়ার ও সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। এ হিসাবে ৬৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার বা ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ লেনদেন কমেছে। ডিএসইতে ৩২৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৩১টির বা ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশের, শেয়ারদর কমেছে ১৩৫টির বা ৪১ দশমিক ২৮ শতাংশের এবং ১৬১টির বা ৪৯ দশমিক ২৪ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিটদর অপরিবর্তিত রয়েছে।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮৫১৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৫৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ৬৫টির এবং ৬৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১২ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

Leave a Reply