শেয়ারবাজারের অর্ধেক লেনদেনই ১০ কোম্পানির

শেয়ারবাজারের অর্ধেক লেনদেনই ১০ কোম্পানির

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ঘুরপাক খাচ্ছে কয়েকটি কোম্পানিতে। গত সপ্তাহে ঢাকার বাজারের মোট লেনদেনের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেকই ছিল ১০ কোম্পানির।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ঢাকার বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল বাজারে ১০ কোম্পানিরই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। কোম্পানি ১০টি হচ্ছে—জেনেক্স ইনফোসিস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, শাইনপুকুর সিরামিকস, ওরিয়ন ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সিপার্ল বিচ রিসোর্ট, ইস্টার্ন হাউজিং, আমরা নেটওয়ার্কস, জেমিনি সি ফুড ও বসুন্ধরা পেপার মিলস। শেয়ারবাজারের লেনদেন হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানিনির্ভর হয়ে যাওয়ায় সার্বিকভাবে বাজারে ইতিবাচক কোনো প্রভাব পড়ছে না। কারণ, বেশির ভাগ শেয়ারের হাতবদল হচ্ছে না।

একাধিক ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারের লেনদেন কয়েক কোম্পানিনির্ভর হয়ে গেছে; কারণ, এসব শেয়ারের সঙ্গে বড় বড় কিছু বিনিয়োগকারীর যুক্ততা রয়েছে। এসব বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিমভাবে নিজেদের মধ্যে শেয়ারের হাতবদল করে লেনদেন বাড়িয়ে দেখাচ্ছে। এতে বাজারেও লেনদেন বাড়ছে। তবে তার সুফল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পাচ্ছেন না।

ডিএসইর তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহে ৩৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের হাতবদল হয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৪২টির। দাম কমেছে ১৩৮টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ২০০টির। বেশির ভাগ শেয়ারের দামে কোনো হেরফের না হলেও ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহ শেষে লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪০৪ কোটি টাকা বা প্রায় সোয়া ১৪ শতাংশ বেড়েছে। তাতে দৈনিক গড় লেনদেনও বেড়েছে। গত সপ্তাহ শেষে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৪৯ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫৬৮ কোটি টাকা।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৬ টাকায়। গত বছরের শেষার্ধে তথা গত জুলাই-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ভালো মুনাফা করায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস বেড়েছে। আর মুনাফা বৃদ্ধির খবরে শেয়ারের দামও বেড়েছে বাজারে। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৪৪ টাকা বেড়েছে।

এদিকে, ঢাকার বাজারে গত সপ্তাহ শেষে লেনদেন বাড়লেও কমেছে সূচক। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৮৩ পয়েন্টে। প্রধান সূচকটি কমলেও বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচকটি ৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৩৫ পয়েন্টে।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেয়ারবাজারে বেশ কিছুদিন ধরে যে মন্দাভাব চলেছে, সেই ধারা থেকে বাজার বের হতে পারছে না। এ কারণে লেনদেন কিছু কোম্পানিতে কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। যেসব কোম্পানিতে কারসাজি কারকসহ বড় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে লেনদেনে সেসব কোম্পানিরই আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি সার্বিকভাবে বাজারের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

Leave a Reply