এশিয়ার বড় ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো রাশিয়াকে বয়কট করেছে

এশিয়ার বড় ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো রাশিয়াকে বয়কট করেছে

ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর

ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী এ যুদ্ধ ইউরোপে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বলে ধারণা অনেকের। প্রতিবেশী দেশের প্রতি রাশিয়ার এ আক্রমণের ফলে মূলত ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনে পরিণত হলো বিশ্ব। পশ্চিমা বিশ্ব তথা যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আক্রমণের পর থেকে গত এক বছরে প্রায় ১০০টি এশিয়ান জায়ান্ট কোম্পানি রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। খবর: আল জাজিরা। 

জানা যায়, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে করপোরেট বিশ্বের প্রতিক্রিয়া পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনে প্রকাশ্যে রূপ নেয়। এর ফলে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য এগিয়ে আসায় মূলত এশিয়ান জায়ান্টগুলো মস্কোকে ছিন্ন করা এবং শাস্তি দেয়ার জন্য প্রচারণা চালায়। বাস্তবিক অর্থে পশ্চিমাদের স্যাংশনের কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করতে বাধাগ্রস্ত হয় এশিয়া।

ইয়েল স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের চিফ এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ইনস্টিটিউটের (সিইএলআই) তথ্য মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে ম্যাকডোনাল্ডস, কোকা-কলা, স্টারবার্কস, অ্যাপল এবং নাইকির মতো ১১০০টি বড় প্রতিষ্ঠান রাশিয়া থেকে নিজেদের ব্যবসা প্রত্যাহার কিংবা উৎপাদন হ্রাসের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে প্রায় ১০০টি এশিয়ান কোম্পানি রাশিয়া থেকে নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয় কিংবা কমিয়ে দেয়।

তথ্যমতে চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো জাপানের অর্ধেকের বেশি বড় বড় কোম্পানি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য প্রত্যাহার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়িক জগতে পূর্ব-পশ্চিম বিভাজন তাদের অঞ্চলের সংঘাতে প্রাসঙ্গিকতাকে ভিন্ন ধারণার দিকে ইঙ্গিত দেয়।

বৈশ্বিকভাবে প্রসিদ্ধ টয়োটা, সনি, নিসান এবং নিন্টেনডোর মতো ৫০টির বেশি জাপানি কোম্পানি যুদ্ধের ফলে রাশিয়া থেকে ব্যবসা প্রত্যাহার করে কিংবা উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে নিয়েছে।

অন্যদিকে, চীন ও ভারত যারা রাশিয়ার নিন্দা কিংবা নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা করতে অস্বীকার করেছে। তারা রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কেনা বাড়িয়েছে, এমনকি ভারতের গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাজাব এবং চীনের টেক জায়ান্ট আলিবাবা ও দিদিসহ অনেক ব্র্যান্ড রাশিয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সিইএলআই’র তথমতে, চীনের ব্যাংক অব চায়না এবং ভারতের টাটা স্টিলসহ মোট ১২টি কোম্পানি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবেশী জাপানের তুলনায় রাশিয়ার ওপর কম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামস্যাং এবং গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি হুন্দাইসহ কেবল ৫টি কোম্পানি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিণœ করেছে।

এদিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামÑযারা ঐতিহ্যগতভাবে পূর্ব-পশ্চিম ভারসাম্য বজায়

রেখে ব্যবসা পরিচালনা করে। তাদেরও কেবল পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক প্রত্যাহার করেছে।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ব্র্যান্ডিং পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ফিউশন ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাকার্স ওসবোর্ন বলেছেন, বিরোধের প্রতি এ অঞ্চলের দ্বৈততা, বিদেশি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া দীর্ঘস্থায়ী ঘৃণার প্রতিফল সৃষ্টি করবে।

আর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক সুমিত ভার্মা এবং রাজীব উপাধ্যায় বলেছেন, এই অঞ্চলটি ইউক্রেন পরিস্থিতির চেয়ে কভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং জীবনযাত্রার চাপের দিকে বেশি মনোনিবেষ করেছে। তারা বলছেন, বর্তমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, কারণ সারা বিশ্বের খাদ্য, জ্বালানি ও সারের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা এশিয়ার সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করেছে।

Leave a Reply