দুই খাতে বিমুখ বিনিয়োগকারীরা

দুই খাতে বিমুখ বিনিয়োগকারীরা

দেশের পুঁজিবাজারে পাঁচ কার্যদিবস পর সব সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে গতকাল সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসের লেনদেন শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। তবে এখনও ২০০ কোটি ছাড়াতে পারেনি লেনদেন। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটদর কমেছে। গতকাল সূচকের উত্থানে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি ছিল আইটি খাতের শেয়ারে। ফলে এ খাতের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে ছিল সেবা ও আবাসন খাত। দর বৃদ্ধির তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে রয়েছে কাগজ ও মুদ্রণ এবং টেলিকমিউনিকেশন খাতের শেয়ার। অপরদিকে উত্থানেও বিনিয়োগকারীরা বিমুখ ছিলেন পাট ও সাধারণ বিমা খাতের শেয়ারে। এ দুই খাতেও শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল। ফলে খাত দুটিতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। এদিন ছয় খাত ছাড়া বাকি সব খাতে এদিন শেয়ারদর বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল আইটি খাতের শেয়ারদর বেড়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। এদিন খাতটিতে মোট ১১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে সাতটির দর বেড়েছে, দুটির কমেছে এবং দুটির দর অপরিবর্তিত ছিল। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সেবা খাতে দর বেড়েছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ খাতে মোট চারটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে তিনটির দর বেড়েছে এবং একটির দর অপরিবর্তিত ছিল। ২ দশমিক ৩০ শতাংশ শেয়ারদর বেড়ে তৃতীয় স্থানে ছিল কাগজ খাত। খাতটিতে লেনদেন হওয়া ছয়টি কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে দুটির দর বেড়েছে, দুটির কমেছে এবং দুটির দর অপরিবর্তিত ছিল। চতুর্থ স্থানে থাকা টেলিকমিউনিকেশন খাতে শেয়ার বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া সিমেন্ট, মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাংক, প্রকৌশলী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং আর্থিক খাতে শেয়ারদর বৃদ্ধির বা কমার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে গতকাল বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় পাট খাতে শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি কমেছে। খাতটিতে শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। এর পরের স্থানে থাকা সাধারণ বিমা খাতে শেয়ারদর কমেছে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ।

অপরদিকে গতকাল লেনদেনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে আইটি খাতে। খাতটিতে গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। এর পর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিবিধ খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ লেনদেন হওয়া ভ্রমণ খাত রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে ২৬১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ দশমিক ১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ১৯৯ দশমিক ২০ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৪ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৫ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে দুই হাজার ২১৮ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে এবং এক হাজার ৩৫৬ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১০টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৫৬টির এবং কমেছে ৯৮টির। শেয়ার পরিবর্তন হয়নি ১৫৬টির।

অপরদিকে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে চার কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৩৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটদর বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ৪০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৭০টির। কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর উত্থানের চেয়ে পতন ১ দশমিক ৩৭ গুণ বেশি।

এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২২ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৯৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক দশমিক ৪২ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ২৫ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১৫ দশমিক ১৮ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩২৪ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ২৯১ দশমিক ২৮ পয়েন্টে, ১০ হাজার ৯৭০ দশমিক ১০ পয়েন্টে ও এক হাজার ১৫৬ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।

Leave a Reply