ব্যবসা ক্ষেত্রে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার বিকল্প নেই

ব্যবসা ক্ষেত্রে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার বিকল্প নেই

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ব্যবসা ক্ষেত্রে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার কোনো বিকল্প নেই। ঢাকায় সপ্তাহব্যপী অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যবসা ও মানবাধিকার শীর্ষক অনুষ্ঠানমালার শেষ দিনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সংলাপে বক্তারা এমন মত দেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়েনে অনুষ্ঠিত  সংলাপে সরকার ও জাতিসংঘের বিভিন্ন  সংস্থার প্রতিনিধিরা ছাড়াও ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সুইডেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বিভিন্ন অংশীজনের অংশগ্রহণে সপ্তাহব্যাপী আলোচনার আয়োজন করে। ইউএনডিপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্যবসা–সংক্রান্ত জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের (ইউএনজিপি) আলোকে একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়নে সংলাপে অংশীজনরা মতামত দেন। এ-সংক্রান্ত ইউএন ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান পিচামন ইউপেনতঙ্গ বলেন, ‘ইউএনজিপি অনুসরণ করার মাধ্যমে ব্যবসা ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে সরকার আরও বেশি করে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারবে।’

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল হক বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বাংলাদেশ ব্যবসার ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার এ ব্যাপারে অনেক নীতি-কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেছে।

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার বলেন, ব্যবসায় মানবাধিকার সুরক্ষায় কাজ করা উন্নয়নশীল দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সরকারকে নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও ইউএনজিপি বাস্তবায়নে ইউএনডিপি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত ।

আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তোওমো পুতিয়েনেন বলেন, সরকার, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা যৌথভাবে বাংলাদেশে শ্রম আইন সংস্কার, শোভন কর্মপরিবেশ সৃষ্টি এবং দায়িত্বশীল ব্যবসা প্রসারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের অনেক দেশ ব্যবসায় মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক নীতিমালা গ্রহণ করেছে। যার ফলে ইউরোপের বাজারে রপ্তানির জন্য সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয় যেমন– শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানির তিন-চতুর্থাংশ ইউরোপে যাওয়ার কারণে দায়িত্বশীল ব্যবসার বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply