প্রাক-বাজেট আলোচনা-করপোরেট করহার কমানোর প্রস্তাব ঢাকা চেম্বারের

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করপোরেট করহার আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে করমুক্ত ব্যক্তির আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা এবং ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক প্রত্যাহারসহ আরও কিছু প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনের পক্ষে দাবি তুলে ধরেন ডিসিসিআইর সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার। ঢাকা চেম্বার আয়কর, মূসক ও শুল্ক-সংক্রান্ত মোট ৩০টি প্রস্তাব করেছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করহারের ব্যবধান কমানো দরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করের হার আরও ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমানো  দরকার। উল্লেখ্য, বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২০ শতাংশ এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তি খাতে করমুক্ত আয়ের সীমা বিদ্যমান ৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা দরকার। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

সহজ ও ব্যবসাবান্ধব আয়কর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে সামির সাত্তার বলেন, বর্তমানে ৩০ লাখ টিআইএনধারী আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। এ  কারণে কর-জিডিপি অনুপাত  প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এমন বাস্তবতায় আগামী ১০ বছরে করদাতার সংখ্যা ১ থেকে ২ কোটিতে উন্নীত করতে এনবিআরকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। করজাল বাড়াতে ঢাকা-চট্টগ্রামের পাশাপাশি অন্যান্য জেলাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে।

ভ্যাটের আওতাবহির্ভূত ব্যবসায়ের বার্ষিক টার্নওভারে ঊর্ধ্বসীমা ৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার। এর কারণ ব্যাখ্যায় সংগঠনের সভাপতি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে পণ্য সরবরাহ ও উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে, ব্যবসায় প্রকৃত মুনাফা কমেছে। বিশেষত, প্রকৃত মুনাফা অনেক কমেছে অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের।

ব্যারিস্টার সামির সাত্তার বলেন, আবগারি শুল্ক মূলত অনভিপ্রেত দ্রব্যের (যেমন– মদ ও তামাক) ভোগকে নিরুৎসাহিত করতে আরোপ করা হয়। ব্যাংকিং খাতে এ ধরনের শুল্ক রাখা অযৌক্তিক। যেহেতু ব্যাংকে আমানতের ওপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়, সেই ক্ষেত্রে আমানতের ওপর ফের আবগারি শুল্ক আরোপ করলে আমানতের ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যা সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করে।

কাস্টমস-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সহজ করতে ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল ইউন্ডো’ দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রপ্তানিকারক দেশ থেকে পণ্যের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গনাইজেশনের (ডব্লিউসিও) নিয়ম অনুসারে বাংলাদেশের কাস্টমস সিস্টেমে আপডেট করা হয় না। এর ফলে এইচএস কোড ঠিক থাকলেও পণ্যের বর্ণনার ভিন্নতার কারণে কাস্টমস কর্মকর্তারা জরিমানা করেন, যা ব্যবসায় খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাই এইচএস কোড স্পষ্ট করা দরকার।  

ডিসিসিআইর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, এইচএস কোড ব্যবহারে ভুল কমানোর জন্য এনবিআরের পক্ষ থেকে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এইচএস কোড ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আরও সচেতন হতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে এনবিআর কোনো ছাড় দেবে না। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড আরও সহজ করতে তিনি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ‘বাংলাদেশ সিঙ্গেল ইউন্ডো’ এর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

আলোচনা সভায় ডিসিসিআই সহসভাপতি এসএম গোলাম ফারুক আলমগীর (আরমান), সহসভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলীসহ এনবিআরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply