পুঁজিবাজারে পতন ঠেকাতে ১২ দাবি

পুঁজিবাজারে পতন ঠেকাতে ১২ দাবি

পুঁজিবাজারে পতন ঠেকাতে ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আসন্ন বাজেটে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন (ক্যাপমিনাফ)।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, দেশের শিল্পপতিরা পুঁজিবাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে শিল্পের বিকাশ ঘটাচ্ছেন। এতে বেকারত্ব লাঘব ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের রাজস্ব আদায়ে অবদান রাখছে। এর ফলে দেশের অর্থ বিভাগ দারুণভাবে সমৃদ্ধশালী হলেও পুঁজিবাজার আজ চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি হারাচ্ছে। অনেক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসির বর্তমান পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের নানা আশ্বাস ও আহ্বানে নতুন করে অনেক বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু অপরিপক্কতা ও দূরদর্শীতার অভাব, কিছু বিতর্কিত গোষ্ঠির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া, বস্তাপঁচা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিয়ে বাজার থেকে বিশাল আকারের অর্থ বের করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে।

পুঁজিবাজারে বর্তমান মন্দা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ১২ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে আগামী বাজেটে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা।পুঁজিবাজার ভালো করতে আগামী এক বছর সব ধরনের আইপিও অনুমোদন বন্ধ রাখা। 

ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপ বন্ধ করা। বাইব্যাক আইন কার্যকর করা। শেয়ার দর বৃদ্ধি পেলে যেমন কারণ দর্শানো হয়, তেমনি কমলেও যেন এর কারণ দর্শানোর নোটিশের ব্যবস্থা করা হয়।

পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের ইস্যু দেখিয়ে যেসব কোম্পানির শেয়ার দর আকাশচুম্বী করা হয়েছে, সেসব কোম্পানির শেয়ার কারসাজি চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড উন্নয়নে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নো ডিভিডেন্ড দেওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড বাজার উন্নয়নে ব্যবহার করা। পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তহবিল গঠন করা। স্মার্ট বাংলাদেশে স্মার্ট পুঁজিবাজার ও স্বচ্ছতা আনয়নে বিএসইসিতে বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করা এবং আসন্ন বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ সম্পূর্ণ নিঃশর্তভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply